Online

E-shram Card Online Apply || Benefit, Document, Apply Process

E-shram Card Online Apply || Benefit, Document, Apply Process

ভারতের অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্র সরকার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে, যার নাম ই-শ্রম কার্ড (E-Shram Card)। এই কার্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি শ্রমিক একটি কেন্দ্রীভূত ডাটাবেসে যুক্ত হবেন এবং সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন প্রকল্পে সরাসরি উপকৃত হবেন। বর্তমানে প্রায় ৩৯ কোটি শ্রমিক ভারতের অসংগঠিত খাতে কাজ করেন, যেমন দিনমজুর, রিকশাচালক, রাজমিস্ত্রি, গৃহপরিচারিকা, কারিগর, কৃষিশ্রমিক, ক্ষুদ্র দোকানদার ইত্যাদি। এতদিন এই শ্রমিকরা আলাদা আলাদা ভাবে সরকারের নানা স্কিমের সুবিধা পেতেন, কিন্তু কোনো কেন্দ্রীভূত রেকর্ড ছিল না। তাই শ্রম মন্ত্রক চালু করেছে ই-শ্রম পোর্টাল (eshram.gov.in) যেখানে শ্রমিকরা নিবন্ধন করে UAN (Universal Account Number) যুক্ত কার্ড পাবেন।

E-shram Card কার্ড কী?

E-shram Card হল একটি সর্বভারতীয় পরিচয়পত্র যা শ্রম মন্ত্রক প্রদান করে। এতে একটি ১২ অঙ্কের UAN নম্বর থাকে, যা আজীবন বৈধ। এই কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকরা সরকার কর্তৃক ঘোষিত সমস্ত সামাজিক নিরাপত্তা স্কিমের সুবিধা একসাথে পেতে পারবেন।

উদাহরণস্বরূপ – দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে অর্থ সাহায্য, পেনশন সুবিধা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, বেকার ভাতা ইত্যাদি ভবিষ্যতে এই কার্ডের সাথে যুক্ত হতে থাকবে।

 

ই-শ্রম কার্ডের সুবিধা ?

ই-শ্রম কার্ড করলে একজন শ্রমিক নিম্নলিখিত সুবিধা পাবেন

1. দুর্ঘটনা বিমা – ই-শ্রম কার্ডধারী শ্রমিক যদি দুর্ঘটনায় মারা যান তবে তাঁর পরিবার ₹২ লক্ষ টাকা পাবে।

2. আংশিক অক্ষমতা সহায়তা – দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি বা আংশিক অক্ষম হলে শ্রমিক পাবেন ₹১ লক্ষ টাকা।

See also  পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা অনলাইন আবেদন ২০২৬ | Census 2027 Online Form

3. পেনশন স্কিম – ভবিষ্যতে ৬০ বছর বয়সের পর মাসিক ₹৩০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাবেন (যেমন PM-SYM স্কিমের মাধ্যমে)।

4. সরকারি যেকোনো নতুন প্রকল্পে অগ্রাধিকার – শ্রমিকরা সরাসরি উপকৃত হবেন, কারণ সব তথ্য ইতিমধ্যেই সরকারী ডাটাবেসে থাকবে।

5. সামাজিক নিরাপত্তা – স্বাস্থ্য, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, শিশুদের শিক্ষাবৃত্তি ইত্যাদির সুবিধা পাওয়া সহজ হবে।

6. NCS (জব পোর্টাল), Skill India-র মাধ্যমিক বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং বিভিন্ন ধরনের স্কিল শিখতে পারবেন এবং সেই কাজে নিযুক্ত হতে পারবেন।

 

কারা আবেদন করতে পারবেন?

ই-শ্রম কার্ড মূলত অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের জন্য। যেমন –

রিকশাচালক, ভ্যান চালক

দিনমজুর, রাজমিস্ত্রি

কৃষিশ্রমিক, মৎস্যজীবী

গৃহপরিচারিকা, দর্জি

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার

কারিগর, হকার ইত্যাদি

 

শর্তাবলী:

আবেদনকারীর বয়স ১৬ থেকে ৫৯ বছর হতে হবে।

আবেদনকারী আয়কর প্রদানকারী বা সরকারি কর্মচারী হতে পারবেন না।

আবেদনকারীর কাছে আধার কার্ড, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

 

ই-শ্রম কার্ড আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি হলো –

1. আধার কার্ড (মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকতে হবে)

2. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর ডিটেলস (IFSC সহ)

3. মোবাইল নম্বর

4. ব্যক্তিগত তথ্য – বয়স, ঠিকানা, পরিবার ও কাজের ধরন

 

কিভাবে আবেদন করবেন?

ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করা যায় খুব সহজেই।

 

অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি:

1. প্রথমে eshram.gov.in ওয়েবসাইটে যান।

2. “Register on E-Shram” অপশনে ক্লিক করুন।

3. আধার নম্বর, জন্ম তারিখ ও মোবাইল OTP দিয়ে লগইন করুন।

4. ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত ও পেশার তথ্য দিন।

5. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিন।

6. সবশেষে সাবমিট করলে ডাউনলোড করতে পারবেন ই-শ্রম কার্ড (UAN সহ)।

 

অফলাইনে আবেদন পদ্ধতি:

যদি নিজে অনলাইনে করতে অসুবিধা হয়, তবে নিকটবর্তী CSC (Common Service Centre) এ গিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটে আবেদন করতে পারবেন।

See also  Senior Citizen ID Card Apply || Senior citizen Card Apply West Bengal

 

উপসংহার :

ই-শ্রম কার্ড শুধু একটি কার্ড নয়, বরং শ্রমিকদের জন্য একটি সামাজিক সুরক্ষা কভার। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা বিমা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের পেনশন পর্যন্ত একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে। যেহেতু এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায় এবং একবার করলে আজীবনের জন্য বৈধ, তাই প্রতিটি শ্রমিকেরই উচিত দ্রুত আবেদন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *