Parijayee Shramik card ফর্ম ফিলাপ ২০২৬ | ডকুমেন্টস, যোগ্যতা, সুবিধা ও কত টাকা পাবেন
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড ফর্ম ফিলাপ ২০২৬: কীভাবে আবেদন করবেন, কী কী ডকুমেন্টস লাগবে এবং কত টাকা পাবেন?
West Bengal Parijayee Shramik Card Form Fill Up 2026
পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উদ্যোগ।
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি, আবেদনের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস,
সরকারি সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তার সম্পূর্ণ তথ্য একসঙ্গে জানুন।
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড কী?
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড বলতে সাধারণভাবে পশ্চিমবঙ্গের সেই সমস্ত
শ্রমিকদের সরকারি নথিভুক্তিকরণকে বোঝায়, যাঁরা কাজের উদ্দেশ্যে
পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অথবা বিদেশে
কর্মরত রয়েছেন বা কাজের জন্য যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Karmasathi (Parijayee Shramik)
পোর্টালের মাধ্যমে শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহ ও রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
রেজিস্ট্রেশনের পর শ্রমিকের জন্য একটি অনন্য পরিচয় নম্বর বা
MWIN (Migrant Worker Identification Number)
তৈরি হতে পারে।
এই পরিচয় নম্বর ভবিষ্যতে শ্রমিকের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য
শনাক্ত করতে এবং প্রযোজ্য সরকারি পরিষেবা বা সহায়তার ক্ষেত্রে
কাজে লাগতে পারে।
কারা কারা পরিযায়ী শ্রমিক কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্পের নির্ধারিত
যোগ্যতা অনুযায়ী সাধারণভাবে নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারেন।
আবেদনের যোগ্যতা
- আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে।
- আবেদনকারীর বয়স সাধারণত ১৪ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে
কর্মরত শ্রমিকরা আবেদন করতে পারবেন। - বিদেশে কর্মরত বা কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার সম্ভাবনা
রয়েছে এমন যোগ্য শ্রমিকরাও প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। - যাঁরা কাজের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্যত্র যান এবং
প্রকল্পের সংজ্ঞা অনুযায়ী পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে বিবেচিত হন।
সহজ ভাষায় বললে: আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী
বাসিন্দা হন এবং কাজের জন্য অন্য রাজ্য বা দেশের বাইরে যান,
তাহলে এই প্রকল্পের অধীনে নথিভুক্তির জন্য যোগ্য হতে পারেন।
তবে চূড়ান্ত যোগ্যতা সরকারি নিয়ম, আবেদনকারীর তথ্য এবং যাচাইয়ের
ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড ফর্ম ফিলাপ করতে কী কী ডকুমেন্টস লাগবে?
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ডের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার আগে
প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি প্রস্তুত রাখলে আবেদন করতে সুবিধা হবে।
সাধারণত আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিচয়, ঠিকানা এবং কর্মসংক্রান্ত
তথ্যের প্রয়োজন হয়।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও তথ্যের তালিকা
- আধার কার্ড:
আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধার সংক্রান্ত তথ্য
প্রয়োজন হতে পারে। - মোবাইল নম্বর:
OTP যাচাই এবং ভবিষ্যতে যোগাযোগের জন্য সক্রিয় মোবাইল নম্বর
প্রস্তুত রাখুন। - পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী ঠিকানার তথ্য:
জেলা, ব্লক, গ্রাম পঞ্চায়েত, পৌরসভা এবং অন্যান্য ঠিকানা
সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। - জন্মতারিখ বা বয়সের তথ্য:
আবেদনকারীর বয়স সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিতে হবে। - কর্মস্থলের তথ্য:
বর্তমানে কোন রাজ্যে বা কোথায় কাজ করছেন, সেই বিবরণ
প্রয়োজন হতে পারে। - পেশার বিবরণ:
আপনি কী ধরনের কাজ করেন, যেমন নির্মাণ শ্রমিক, কারখানার
কর্মী, রাজমিস্ত্রি বা অন্যান্য পেশা, তা জানাতে হতে পারে। - নমিনির তথ্য:
প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারের সদস্য বা নমিনির নাম ও অন্যান্য
বিবরণ দিতে হতে পারে। - ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য:
নির্দিষ্ট দাবি বা আর্থিক সহায়তার আবেদনের ক্ষেত্রে
ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশনে কোন
ডকুমেন্ট বাধ্যতামূলক এবং পরবর্তী আর্থিক সহায়তার দাবির সময়
কোন অতিরিক্ত নথি লাগবে, তা পরিষেবা ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী
আলাদা হতে পারে।
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড ফর্ম ফিলাপ পদ্ধতি ২০২৬
এবার জেনে নিন কীভাবে অনলাইনে পরিযায়ী শ্রমিক কার্ডের জন্য
রেজিস্ট্রেশন করবেন। নিচে ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়াটি
সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
প্রথম ধাপ: সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করুন
প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিযায়ী শ্রমিক রেজিস্ট্রেশনের
নির্ধারিত সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।
সরকারি পোর্টালের নাম:
Karmasathi (Parijayee Shramik) Portal
পোর্টালে প্রবেশ করার পর রেজিস্ট্রেশন বা নতুন আবেদন সংক্রান্ত
অপশন খুঁজে নিন।
দ্বিতীয় ধাপ: মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন
রেজিস্ট্রেশন শুরু করার সময় আপনার সক্রিয় মোবাইল নম্বর দিতে
হতে পারে। মোবাইল নম্বরে OTP পাঠানো হলে সেটি নির্দিষ্ট স্থানে
বসিয়ে যাচাই সম্পন্ন করুন।
মোবাইল নম্বরটি সঠিকভাবে প্রদান করুন, কারণ ভবিষ্যতে সরকারি
যোগাযোগ বা আবেদন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তৃতীয় ধাপ: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন
OTP যাচাইয়ের পর আবেদন ফর্মে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য
পূরণ করতে হবে।
সাধারণত নিম্নলিখিত তথ্য চাওয়া হতে পারে:
- আবেদনকারীর নাম
- জন্মতারিখ বা বয়স
- লিঙ্গ
- মোবাইল নম্বর
- আধার সংক্রান্ত তথ্য
- অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত বিবরণ
সমস্ত তথ্য পরিচয়পত্র অনুযায়ী সঠিকভাবে পূরণ করুন।
চতুর্থ ধাপ: স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিন
এবার আবেদনকারীর পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য
পূরণ করতে হবে।
- জেলা
- ব্লক বা পৌরসভা
- গ্রাম পঞ্চায়েত, যদি প্রযোজ্য হয়
- গ্রাম বা ওয়ার্ড
- বাড়ির ঠিকানা
- অন্যান্য চাওয়া তথ্য
ড্রপডাউন মেনুতে নিজের এলাকার সঠিক তথ্য নির্বাচন করুন।
ভুল ঠিকানা নির্বাচন করলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে।
পঞ্চম ধাপ: কর্মসংক্রান্ত তথ্য পূরণ করুন
পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আপনার কাজের
বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ। ফর্মে চাওয়া হলে বর্তমানে কোথায় কাজ করছেন
এবং কী ধরনের কাজ করেন, তা জানাতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী নিম্নলিখিত তথ্য দিতে হতে পারে:
- বর্তমানে যে রাজ্যে কাজ করছেন
- কর্মস্থলের জেলা বা এলাকার নাম
- পেশা বা কাজের ধরন
- নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিবরণ
- অন্যান্য কর্মসংক্রান্ত তথ্য
ষষ্ঠ ধাপ: নমিনি ও অন্যান্য তথ্য দিন
সরকারি ফর্মে নমিনি বা পরিবারের সদস্য সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হলে
সঠিকভাবে তা পূরণ করতে হবে। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সুবিধা বা দাবির
ক্ষেত্রে নমিনির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সপ্তম ধাপ: তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দিন
সমস্ত তথ্য পূরণ করার পর একবার ভালোভাবে ফর্মটি যাচাই করুন।
নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং কর্মস্থলের তথ্য
সঠিক রয়েছে কি না দেখে নিন।
সবকিছু ঠিক থাকলে Submit বা Final Submit অপশনে ক্লিক করে
আবেদন জমা দিন।
সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে একটি MWIN বা Migrant Worker
Identification Number তৈরি হতে পারে। এই নম্বরটি ভবিষ্যতের
প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখুন।
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্পের অন্যতম
উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের বাইরে কর্মরত শ্রমিকদের জরুরি পরিস্থিতিতে
সহায়তা করা এবং তাঁদের কল্যাণমূলক সুরক্ষা প্রদান করা।
নথিভুক্ত ও যোগ্য শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে
নিম্নলিখিত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
১. স্বাভাবিক মৃত্যু হলে আর্থিক সহায়তা
নথিভুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে নির্ধারিত
নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁর নমিনিকে
৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
২. দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে আর্থিক সহায়তা
পরিযায়ী শ্রমিকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে নির্ধারিত শর্ত
পূরণ সাপেক্ষে নমিনিকে
২,০০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
৩. মৃতদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য সহায়তা
রাজ্যের বাইরে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হলে মৃতদেহ পশ্চিমবঙ্গে
ফিরিয়ে আনার জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী
২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
৪. রাজ্যের বাইরে সৎকারের জন্য সহায়তা
রাজ্যের বাইরে মৃতদেহের সৎকারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী
৩,০০০ টাকা সাধারণ সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
৫. দুর্ঘটনাজনিত প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে সহায়তা
কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার কারণে পরিযায়ী শ্রমিক প্রতিবন্ধিতার
শিকার হলে নির্ধারিত নিয়ম ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা
পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
- ৪০% থেকে ৮০% প্রতিবন্ধিতা:
৫০,০০০ টাকা - ৮০%-এর বেশি প্রতিবন্ধিতা:
১,০০,০০০ টাকা
উপরের আর্থিক সহায়তাগুলি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন করলেই প্রত্যেক শ্রমিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে
এই সমস্ত টাকা পাবেন না।
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ডে কত টাকা দেওয়া হবে?
অনেকেই জানতে চাইছেন, পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড তৈরি করলে কি
প্রত্যেক মাসে নির্দিষ্ট টাকা পাওয়া যাবে?
এখানে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানা দরকার। পশ্চিমবঙ্গের
Migrant Workers’ Welfare Scheme, 2023-এর মূল সুবিধাগুলির মধ্যে
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যু, দুর্ঘটনা, প্রতিবন্ধিতা এবং
মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থাৎ, এই কার্ডটি সাধারণ মাসিক ভাতা পাওয়ার কার্ড হিসেবে
প্রচার করা ঠিক নয়।
আর্থিক সহায়তার তালিকা
| সুবিধার ধরন | সহায়তার পরিমাণ |
|---|---|
| স্বাভাবিক মৃত্যু | ৫০,০০০ টাকা |
| দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু | ২,০০,০০০ টাকা |
| মৃতদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনা | ২৫,০০০ টাকা |
| রাজ্যের বাইরে মৃতদেহের সৎকার | ৩,০০০ টাকা |
| ৪০% থেকে ৮০% প্রতিবন্ধিতা | ৫০,০০০ টাকা |
| ৮০%-এর বেশি প্রতিবন্ধিতা | ১,০০,০০০ টাকা |
গুরুত্বপূর্ণ: উপরের সহায়তাগুলি নির্দিষ্ট
পরিস্থিতি, সরকারি নিয়ম, প্রয়োজনীয় নথি এবং কর্তৃপক্ষের
যাচাইয়ের ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়।
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ডের সুবিধা পেতে কী করতে হবে?
নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য শুধু রেজিস্ট্রেশন করাই
যথেষ্ট নয়। যদি কোনও শ্রমিক প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট
সুবিধার জন্য যোগ্য হন, তাহলে তাঁকে সংশ্লিষ্ট দাবি বা
Claim Application জমা দিতে হতে পারে।
সাধারণভাবে প্রক্রিয়াটি হতে পারে:
- প্রথমে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
- নিজের MWIN নম্বর সংরক্ষণ করুন।
- নির্দিষ্ট সুবিধার জন্য প্রযোজ্য Claim বা আবেদন অপশন
নির্বাচন করুন। - প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়ক নথি আপলোড করুন।
- আবেদন জমা দিয়ে সরকারি যাচাই ও অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন।
কোন পরিস্থিতিতে কোন নথি লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট দাবি ফর্মের
নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ডের আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করবেন?
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার পর আবেদন বা নথিভুক্তির তথ্য
যাচাই করার জন্য সরকারি পোর্টালে নির্দিষ্ট সুবিধা থাকতে পারে।
সাধারণভাবে স্ট্যাটাস চেক করার ধাপগুলি হলো:
- পরিযায়ী শ্রমিকের সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করুন।
- Login অথবা Status Check অপশন খুঁজে নিন।
- প্রয়োজনীয় MWIN, মোবাইল নম্বর বা অন্যান্য তথ্য দিন।
- Submit বা Search অপশনে ক্লিক করুন।
- আপনার রেজিস্ট্রেশন বা আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখুন।
স্ট্যাটাস চেক করার নির্দিষ্ট পদ্ধতি পোর্টালের বর্তমান
পরিষেবা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড ফর্ম ফিলাপের সময় গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
অনলাইনে আবেদন করার সময় কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে,
যাতে পরবর্তীতে কোনও সমস্যা না হয়।
- শুধুমাত্র সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করুন।
- নিজের সঠিক নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা প্রদান করুন।
- সক্রিয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করুন।
- ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করবেন না।
- আবেদন নম্বর বা MWIN সংরক্ষণ করে রাখুন।
- OTP এবং ব্যাংকের গোপন তথ্য অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
- আর্থিক সহায়তার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও সরকারি নির্দেশনা
আগে যাচাই করুন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. পরিযায়ী শ্রমিক কারা?
যে সমস্ত শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে নিজেদের স্থায়ী বাসস্থান
ছেড়ে অন্য রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অথবা বিদেশে যান,
তাঁদের সাধারণভাবে পরিযায়ী শ্রমিক বলা হয়।
২. পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা কি পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড করতে পারবেন?
হ্যাঁ। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা যাঁরা অন্য রাজ্য বা বিদেশে
কর্মরত রয়েছেন বা কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার যোগ্যতার মধ্যে
পড়েন, তাঁরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নথিভুক্ত হতে পারেন।
৩. পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড করতে কত টাকা লাগবে?
সরকারি পোর্টালে অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোনও ফি প্রযোজ্য
কি না, তা বর্তমান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করুন।
কোনও অননুমোদিত ব্যক্তিকে অযথা টাকা দেবেন না।
৪. পরিযায়ী শ্রমিক কার্ড করলে কি প্রতি মাসে টাকা পাওয়া যাবে?
এই প্রকল্পের মূল আর্থিক সহায়তাগুলি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে
মৃত্যু, দুর্ঘটনা, প্রতিবন্ধিতা এবং অন্যান্য অনুমোদিত
সহায়তার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রত্যেক রেজিস্টার্ড শ্রমিককে
স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসিক ভাতা দেওয়ার ঘোষণা হিসেবে এটিকে
প্রচার করা উচিত নয়।
৫. পরিযায়ী শ্রমিকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে কত টাকা পাওয়া যায়?
নির্ধারিত যোগ্যতা ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুর্ঘটনাজনিত
মৃত্যুর ক্ষেত্রে নমিনিকে ২,০০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার
ব্যবস্থা রয়েছে।
৬. পরিযায়ী শ্রমিকের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে কত টাকা পাওয়া যায়?
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে
নমিনিকে ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
৭. রেজিস্ট্রেশন করার পর কী করতে হবে?
রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে MWIN নম্বর সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে
কোনও নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধার জন্য যোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট
Claim Application জমা দিতে হতে পারে।
উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ জীবিকার জন্য রাজ্যের বাইরে কাজ করতে
যান। তাঁদের সরকারি ব্যবস্থায় নথিভুক্ত করা এবং জরুরি
পরিস্থিতিতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিযায়ী শ্রমিক
কল্যাণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে অন্য রাজ্য বা বিদেশে
কাজ করেন, তাহলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরিযায়ী শ্রমিক
হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
আবেদন করার আগে নিজের সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখুন,
সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করুন এবং আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে
নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত ভালোভাবে জেনে নিন।
এই আর্টিকেলটি উপকারী মনে হলে আপনার পরিচিত পরিযায়ী শ্রমিকদের
সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে তাঁরাও সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে
সঠিক তথ্য জানতে পারেন।
সরকারি পোর্টাল
পরিযায়ী শ্রমিক সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশন ও পরিষেবার জন্য
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্ধারিত সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করুন।

